Skip to main content

বিজ্ঞান সম্মত ভাবে ওজন কমানোর আরো ২১ টি টিপস

ওজন কমানোর ব্যাপারে মানুষের মনে অনেক ভুল ধারণা আছে। বর্তমানে আপনাদের ওজন কমানোর জন্য এমন অনেক উপদেশ দেওয়া হয় যেগুলোর পেছনে কোনো বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা নেই।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা বহুবছর ধরে পর্যবেক্ষণ করার পরে ওজন কমানোর একাধিক উপায় জানিয়েছেন। যেগুলি সত্যিই আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে যদি আপনি এই টিপস গুলি মেনে চলেন।

এই হলো বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে ওজন কমানোর ২৫ টি টিপস-

১. অনেক জল পান করুন, বিশেষ করে খাবার আগে।


বর্তমানে যেটা জানানো হচ্ছে যে জল পানে আপনার মেদ কমবে এবং এটি বিজ্ঞান সম্মত ভাবে সত্য।

আপনি যখন জল পান করেন তখন আপনার মেটাবোলিজম ২০-৩০% বেড়ে যায়। এবং এই মেটাবোলিজম আপনার শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।

২. সকালের নাস্তায় ডিম খান।


আপনি সকালে শর্করা জাতীয় খাবার রুটি, ভাত না খেয়ে যদি আপনি তার বদলে ডিম খান তাহলে আপনার শরীর অনেক উন্নত মানের প্রোটিন গ্রহন করে। যা কম ক্যালোরি বিশিষ্ট। যা আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

আপনি যদি ডিম খেতে পছন্দ না করেন তাহলে আপনি অন্য কোনো ভালো প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে পারেন।

৩. ব্ল্যাক কফি পান করুন।


ব্ল্যাক কফির একাধিক উপকারিতা আছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো ব্ল্যাক কফি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ব্ল্যাক কফিতে থাকে ক্যাফিন। উন্নত মানের ক্যাফিনে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা আমাদের মেটাবোলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা যেটা জানিয়েছেন যে ক্যাফিন আমাদের শরীরের মেটাবোলিজম ৩-১১% বাড়িয়ে দেয়। যা আমাদের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

৪. গ্রীন টি পান করুন।


ব্ল্যাক কফির মতই গ্রীন টিরও একাধিক উপকারিতা রয়েছে। এবং তাদের মধ্যে অন্যতম হলো এটি আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

গ্রীন টিতে স্বল্প মাত্রায় ক্যাফিন থাকে, কিন্তু এই ক্যাফিনের মধ্যে রয়েছে শক্তশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। বর্তমানে এমন অনেক রোগা হওয়ার ওষুধ পাওয়া যায় যাতে এই গ্রীন টি এক্সট্র্যাক্ট ব্যবহার করা হয়।

৫. দিনে কিছু সময় উপস থাকার চেষ্টা করুন (intermittent fasting)


বন্ধুরা বর্তমানে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে আপনি যদি দিনের কিছু সময় উপস থাকেন তাহলে মাত্র এক মাসে আপনি ৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমাতে পারবেন।

Intermittent fasting হল এমন একটি উপায় যেখানে আপনাকে দিনের ১৬ ঘণ্টা অবধি উপস থাকতে হবে এবং বাকি ৮ ঘণ্টা আপনি খাবেন। অর্থাৎ যদি আপনি আগের দিন রাত ৮ টায় খান তাহলে আবার পরের দিন দুপুর ১২ তার পরে খাবেন। পৃথিবীতে এই উপায়ে অনেক মোটা মানুষ রোগা হয়েছে যা আপনি ইউটিউব অথবা গুগলএ দেখতে পারেন।


৬. চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাদ্য ত্যাগ করুন।


চিনি যুক্ত খাবার বিজ্ঞান মতে মোটা হওয়ার কারণ এবং এটি আপনাকে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস এর দিকে ঠেলে দিতে পরে।

চিনি যুক্ত খাবারে অনেক বেশি ক্যালোরি থাকে। আর আপনি যদি রোগা হতে চান তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে সবসময় কম ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেতে হবে। আপনি যদি আপনার খাদ্য তালিকা থেকে চিনি এবং অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্য বাদ দেন তাহলে আপনি মাত্র এক সপ্তাহে ৫ কেজি অবধি ওজন কমাতে পারেন।

৭. অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্য ত্যাগ করুন।


অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ ময়দা, ভাত, রুটি জাতীয় খাদ্য যদি আপনি কম খান অথবা ত্যাগ করেন তাহলে আপনি খুব সহজেই রোগা হতে পারবেন।

এই অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্য আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে যা আপনাকে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস এর দিকে ঠেলে দিতে পরে। আর তাছাড়া অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্যে অনেক বেশি ক্যালোরি থাকে যা আপনার শরীরে মেদ বাড়াতে সাহায্য করে।

৮. খাবার সময় ছোট থালা বা প্লেট ব্যাবহার করুন।


আপনি যদি ছোট প্লেটে খাবার খান তাহলে আপনি সাধারণত কম খাবার খাবেন। দেখাগেছে যে ছোট থালা বা প্লেটে কম খাবার ধরে। অর্থাৎ আপনি খাবার সময় কম খাবার খাবেন অর্থাৎ আপনি কম ক্যালোরি খাবেন। 

৯. নিজের চারপাশে সবসময় হেলদি খাদ্য রাখুন।


সবার আগে ফ্রিজে চেক করুন। ফ্রিজে সবসময় হেলদি খাবার রাখুন যেমন ফল, পিনাট বাটার, ব্রাউন ব্রেড, ওটস, দুধ, চিকেন, ডিম, মাছ, দই ইত্যাদি সুস্বাস্থ্য খাদ্য রাখুন। যার ফলে যখন আপনি খুদার্থ থাকবেন তখন আপনি আপনার চারপাশের হেলদি খাবার গুলোই খাবেন।

১০. প্রবায়োটিক সাপ্লিমেন্টস নিন।


প্রবায়োটিক সাপ্লিমেন্টস এর মধ্যে অনেক ব্যাকটেরিয়া (lactobacillus) থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

আপনি যদি প্রবায়টিক সাপ্লিমেন্টস না খেতে চান সেক্ষেত্রে আপনি দই খেতে পারেন। দই এর মধ্যেও অনেক lactobacillus থাকে। যা আপনাকে রোগা হতে সাহায্য করবে।

১১. সকালে কার্ডিও করুন।


রোজ সকালে খালি পেটে ১ ঘণ্টা cardio অর্থাৎ আপনি দৌড়াতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন, হাটতে পারেন ইত্যাদি। রোজ cardio করলে আপনি অনেক তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।

১২. ভারী ভারী ওজন তুলুন।


আপনি যদি দৈনন্দিন এমন কোনো কাজ করেন যেখানে আপনার শরীরের কোনো খাটুনি হয় না সেক্ষেত্রে আপনাকে জিমে গিয়ে একটু ভারী ওজন তুললে অথব ব্যায়াম করলে খুব তারাতারি আপনার ওজন কমবে এবং আপনার শরীরের মাসল অনেক বাড়বে।

১৩. অনেক বেশি ফাইবার জাতীয় খাবার খান।


দৈনন্দিন জীবনে ভাত রুটি বদলে শাকসবজি, ফল অনেক বেশি পরিমাণে খান। এতে অনেক বেশি পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা আপনাকে খুব তারাতারি রোগা হতে সাহায্য করবে।

১৪. বেশি করে ফল এবং শাকসব্জি খান।


ভাত রুটি বদলে আপনাকে শাকসব্জি এবং ফল খেতে হবে। ফল বা শাকসব্জি অনেক কম ক্যালোরি বিশিষ্ট হয়। যার ফলে আপনি এগুলো খেলে আপনার পেট ভর্তি থাকবে অথচ আপনার শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশ করবে না। যার ফলে আপনি খুব তারাতারি রোগা হতে পারবেন।

১৫. রাতে ভালো করে ঘুমোন।


বন্ধুরা হেলদি খাবার খাওয়ার সাথেসাথে আপনাকে রোজ হেলদি ঘুমোতে হবে। রোজ কম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান প্রয়োজন। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে ভালো ঘুম নাহলে সেটা ওজন বাড়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

১৬. অস্বাস্থ্যকর খাবার গুলির থেকে দূরে থাকুন।


বন্ধুরা যে সমস্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার আপনার খুব পছন্দ সেই সমস্ত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের থেকে দূরে থাকুন। অস্বাস্থ্যকর খাদ্য অর্থাৎ বাইরের চাউমিন, এগ রোল, মোগলাই, কচুরি, পরোটা, রসগোল্লা, সন্দেশ, কেক ইত্যাদি খাদ্য গুলি শুধু আপনার ওজন বাড়ায় না সাথে সাথে আপনার কোলেস্টেরল বাড়িয়ে তোলে। 

১৭. বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার খান।


বিজ্ঞানীরা যেটা দেখেছেন যে প্রোটিন জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের মেটাবোলিজম বাড়িয়ে তোলে। যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি ক্ষয় করে। যারফলে আপনার ডায়েটে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যুক্ত করলে খুব সহজেই নিজের ওজন কমাতে সফল হবেন।

১৮. Whey protein সাপ্লিমেন্টস পান করতে পারেন।


বন্ধুরা যদি আপনার দৈনন্দিন খাদ্য থেকে আপনি সঠিক পরিমাণ প্রোটিন এর যোগান না দিতে পারেন সেই ক্ষেত্রে আপনি অনলাইনে অথবা বাজার থেকে একটি হোয়ে প্রোটিন (whey protein) কিনে তার মাধ্যমে প্রোটিন এর যোগান দিতে পারেন।

১৯. বাজারের ঠান্ডা পানীয় Coke, সোডা, ফ্রুট জুস খাবেন না।


বন্ধুরা বাজারে যে সমস্ত ঠান্ডা পানীয় পাওয়া যায় তাতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে। যা আপনার শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। এতে অনেক বেশি পরিমাণে ক্যালোরি থাকে যা আপনাকে খুব সহজেই মোটা বানাতে পারে।

২০. ডায়েট করবেন না, হেলদি খাবার খান।


বর্তমানে সবথেকে বড়ো অসুবিধা হলো ডায়েট করা। এটা সত্যিই শক্ত কাজ এবং এটি দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া যায় না।

ডায়েট করার থেকে আপনি লক্ষ্য রাখুন যে আপনাকে হেলদি খাবার খেতে হবে। তাহলেই দেখবেন আপনার ওজন কমতে শুরু করবে এবং আপনি একজন শক্তিশালী অথবা ফিট মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন।

২১. খাবার খাওয়ার সময় আস্তে আস্তে চিবিয়ে খান।


খাবার খাওয়ার সময় আমাদের যে পেট ভরে গেছে এটা আমাদের বুঝতে আমাদের ব্রেন এর কিছু সময় লাগে। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন খাবার খাওয়ার সময় আপনি আস্তে আস্তে চিবিয়ে খান। যার ফলে আপনি নিজের অজান্তেই কম ক্যালোরি খাবার খাবেন। যা আপনার শরীরে ওজন বাড়ানোর হরমোন কম উৎপন্ন করবে। যার ফলে আপনি অতি সহজেই ওজন কমাতে সক্ষম হবেন।

Comments

Popular posts from this blog

কিভাবে তাড়াতাড়ি ওজন কমাবেন: ৩টি খুব সহজ উপায়

বন্ধুরা বর্তমানে নিজের ওজন কমানোর অনেক সহজ উপায় রয়েছে। যদি আপনি এই উপায় গুলি অনুসরণ করেন তাহলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি নিজের ওজন কমাতে পারেন।


কিন্তু, ওজন কমানোর এই পদ্ধতি গুলি প্রথম দিকে আপনার পক্ষে পালন করা সহজ হবে না। তবে কিছু দিন পরে এগুলো আপনার অভ্যাস হয়ে উঠবে।
আপনার ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমানোর এই হলো ৩টি সহজ উপায়:
১. চিনি এবং অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার আপনার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।
আপনি যদি রোগা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে সবার আগে আপনার খাদ্য তালিকা থেকে মিষ্টি এবং অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। কারণ চিনি যুক্ত খাবার বিজ্ঞান মতে মোটা হওয়ার কারণ এবং এটি আপনাকে ভবিষ্যতে ডিয়াবেটিস এর দিকে ঠেলে দিতে পরে। 
চিনি যুক্ত খাবারে অনেক বেশি ক্যালোরি থাকে। আর আপনি যদি রোগা হতে চান তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে সবসময় কম ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেতে হবে। আপনি যদি আপনার খাদ্য তালিকা থেকে চিনি এবং অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাদ্য বাদ দেন তাহলে আপনি মাত্র এক সপ্তাহে ৫ কেজি অবধি ওজন কমাতে পারেন।
২. প্রোটিন, ফ্যাট এবং শাকসব্জি জাতীয় খাবার খেতে হবে।
আপনাকে আপনার খাদ্য তালিকাতে প…